ব্রেকআউট ট্রেডিং স্ট্রেটিজি:
প্রাইস যখন হরিজেন্টাল রেজিস্টেন্স লাইন বা মেজর ট্রেন্ডলাইন বা কারেক্টিভ ট্রেন্ডলাইন বা আগের দিনের ক্যান্ডল বা প্রাইস অ্যাকশন প্যাটার্ন (ফ্ল্যাগ, ট্রায়াঙ্গেল) কে অতিক্রম করে উপরের দিকে যায় তখন তাকে ব্রেকআউট বলে। সঠিক ব্রেকআউট নির্ণয় করার জন্য প্রথমে সঠিকভাবে রেজিস্টেন্স বের করতে হয় l রেজিস্টেন্স হতে পারে হরিজেন্টাল লাইন , মেজর ট্রেন্ড লাইন , কারেক্টিভ ট্রেন্ড লাইন ইত্যাদি l রেজিস্টেন্স হচ্ছে যে লেভেল থেকে সবচেয়ে বেশিবার প্রাইস ফিরে এসেছে বা প্রত্যাক্ষিত হয়ে এসেছে l অন্যভাবে বলা যায় জোন / এরিয়া থেকে প্রাইস বেশি বার রিজেকশন হয়েছে সেটি হলো রেজিস্ট্যান্স জোন l প্রাইস যখন সাপোর্ট লেভেল থেকে বাড়তে থাকে তখন তার আচরণ কি রকম হয় সেটা বুঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ l প্রাইস কি ব্রেকআউট হবে নাকি রেজিস্ট্যান্স থেকে ফিরে আসবে এটি বোঝার কিছু লক্ষণ আছে l
সফল ব্রেকআউট হবার পাঁচটি লক্ষণ:
পাঁচটি লক্ষণ এর উপর ব্রেকআউট নির্ভর করে l পাঁচটি লক্ষণ যাচাই-বাছাই করে বিবেচনা করতে হবে পরবর্তীতে কী ঘটতে যাচ্ছে l লক্ষণ গুলি হল : ১. ট্রেন্ড: একটি স্ট্রং আপট্রেন্ড থাকতে হবে ২. প্রাইস মুভমেন্টের স্ট্রেংথ বা ক্যান্ডেল গুলি বড় বড় হওয়া ৩. ভলিউম ক্রমাগত বৃদ্বি পাওয়া ৪. সময়: দ্রুত সময়ে রেজিস্ট্যান্স লেভেলে পার করা ৫ . কোয়ালিটি অফ জুন: রেজিস্টেন্স লাইন তিন বার হিট হলে ব্রেকআউট হবার সম্বাবনা বেশি l
রেজিস্টেন্স লেভেলে প্রাইস ভলিউম বাড়তেছে এটি হলে ব্রেকআউট হবার সম্ভাবনা প্রবল l একটি ইউনিভার্সেল রুল হল যখন প্রাইস কোন একটি রেসিসটেন্স লেভেল কে তিনবার হিট করে তখন সেটি একটি সাকসেসফুল ব্রেকআউট দেয় l
রেজিস্টেন্স লেভেলে গিয়ে প্রাইস নিচের পাঁচটি আচরণ করে l
রেজিস্টেন্স লেভেলে এই পাঁচটি প্রাইস অ্যাকশনকে ভালোভাবে জানতে হবেl প্রাইস যখন রেজিস্টেন্স লেভেল থাকবে তখন এই পাঁচটি আচরণের মধ্যে যেকোনো একটি হবে l প্রথম তিনটি সফল ব্রেকআউট এর মধ্যে পড়ে l
১. পুশ থ্রু : প্রাইস সরাসরি ব্রেকআউট দিয়ে উপরে চলে যেতে পারে একে পুশ থ্রু বলে l
২. রিভার্সেল রিজেকশন রিভার্সেল: রেজিস্ট্যান্স এর পাশে প্রাইস ঘুরাঘুরি করে একটি ব্রিজ তৈরি করবে বা সাময়িক সাইডওয়েজ এ গিয়ে তারপর ব্রেকআউট হবে l
৩. ব্রেকআউট টেস্ট : প্রাইস রেজিস্টেন্স লাইন থেকে হালকা নিচে আসবে এরপর আবার ব্রেকআউট করে উপরে চলে যাবে l
৪. ফেক আউট : প্রাইস ব্রেকআউট দিবে তারপর সেল প্রেসার পেয়ে নিচে চলে আসবে l
৫. বাউন্স: প্রাইস রেজিস্টেন্স লাইন টাচ করে নিচের দিকে নেমে আসবে l
ব্রেকআউট এন্ট্রি কোথায় নিব:
১. এগ্রেসিভ বায়ার হলে ব্রেকআউট হবার আগে ২ . ব্রেকআউট লেভেলে ৩. ব্রেকআউট হবার পরে রিটেস্ট হয়ে প্রাইস সাপোর্ট লেভেল আসলে এন্ট্রি নিতে হবে ৪. ব্রেকআউট টেস্ট না দিলে ব্রেকআউট এর উপর ব্রেকআউট এন্ট্রি নিতে হবে ।
ব্রেকআউট কনফার্মেশন:
ব্রেকআউট কনফার্ম হওয়ার জন্য প্রাইস শার্প ভাবে উপরের দিকে যাওয়া জরুরী। প্রাইস কোনরকম রিজেকশন দিয়ে রেজিস্টেন্স লাইনের নিচে ক্লোজ দিতে পারবে না। রেজিস্ট্যান্স লাইন থেকে যদি নিচে নেমে ক্লোজ হয় তাহলে সেটা ব্রেকআউট সাকসেসফুল হবে না।
সতর্কতাঃ
একটি কথা মনে রাখতে হবে এসব প্যাটার্ন আসলেই প্রাইস রিভার্স হয়ে যাবে বা প্রাইস বেড়ে যাবে এমন নাও হতে পারে। প্রাইস বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে। ট্রেডিংয়ে কোনো চার্ট এই ফারফেক্ট নয়। সব গুলি লজিক তো আর শতভাগ কাজ করবে না কিছু ব্যতিক্রম তো থাকে। এটা মেনে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এ পোষ্টের শেয়ারের চার্ট উদাহরণ স্বরূপ বিবেচনা করা হয়েছে। এটিকে কেউ বাই /সেল হিসাবে নিবেন না।