Friday, September 2, 2022

আমরা যারা টেকনিক্যাল এনালাইসিস জানিনা বা কম বুঝি তারা একটি শেয়ার কিভাবে সিলেক্ট করব।

 আমরা যারা টেকনিক্যাল এনালাইসিস জানিনা বা কম বুঝি তারা একটি শেয়ার কিভাবে সিলেক্ট করব।

একটি শেয়ার এর জীবনচক্র কে আমরা এক বছরের রেকর্ডডেট থেকে পরের বছরের রেকর্ড ডেট পর্যন্ত একটি বছর হিসাবে বিবেচনা করতে পারি।
আমরা প্রথমে একটি শেয়ারের বাৎসরিক হাই প্রাইস এবং বাৎসরিক লো প্রাইস বের করে নিব। বাৎসরিক হাই প্রাইস এবং বাৎসরিক লো প্রাইস কে আমরা তিনটি পর্যায়ে ভাগে ভাগ করব। প্রথম পর্যায় হল প্রাইস বাৎসরিক লো হতে ০-৩০% এর মধ্যে। দ্বিতীয় পর্যায় প্রাইস বাৎসরিক লো হতে ৩০-৮০% এর উপরে। তৃতীয় পর্যায় প্রাইস বাৎসরিক হাইয়ের ৮০-১০০% এর মধ্যে। একটি শেয়ার নির্বাচন করার প্রথমে আমরা শেয়ারটির প্রাইস লোকেশন দেখে নিব। শেয়ারটি তিন পর্যায়ের কোন পর্যায়ে আছে। বাৎসরিক লো প্রাইস থেকে শেয়ারটি বর্তমানে উপরের দিকে উঠতেছে। নাকি নিচের দিকে যাচ্ছে সেটি বুঝার চেষ্টা করব। যদি উপরের দিকে যায় তাহলে শেয়ারটিকে তিনটি পর্যায়ের কোন পর্যায়ের আছে তা বের করবো।
প্রথম পর্যায় প্রাইস বাৎসরিক লো হতে ০-৩০% এর মধ্যে : প্রাইস যদি বাৎসরিক লো প্রাইস থেকে ০-৩০% মধ্যে থাকে তা হলে আমরা বুঝব শেয়ারটি এখনও বিগ ইনভেস্টর বা স্মার্ট মানির ক্রয়ের মধ্যে আছে। এ পর্যায়কে টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর ভাষায় একুমুলেশান জোন বলা হয়। এই স্টেজে আমরা যদি শেয়ার ক্রয় করি তা হলে আমাদেরকে ধর্য্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। কারণ এ একুমুলেশন জোন তিন থেকে ৬ মাস ও হতে পারে। এ একুমুলেশন পর্যায়ে শেয়ারটি ৩ থেকে ৪ বার হাই -লো তৈরী করতে পারে। এ পর্যায়ে প্রাইসের দাম কম বাড়বে এবং ভলিউম কম হবে বা শুকিয়ে যাবে। ফার্স্ট কোয়াটার বা সেকেন্ড কোয়াটারে একটি শেয়ার একুমুলেশন পর্যায়ে অবস্থান করে। eps খারাপের জন্য অনেক সময় থার্ড কোয়াটারের পরেও অনেক শেয়ারকে এ পর্যায়ে দেখা যায়।
দ্বিতীয় পর্যায় প্রাইস বাৎসরিক লো হতে ৩০-৮০% এর উপর : এ পর্যায়টি আমার সবচেয়ে পছন্দের কারণ এ পর্যায়ে শেয়ার ক্রয় করে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয় না। সেকেন্ড কোয়াটার বা থার্ড কোয়াটার ভালো eps ডিক্লারেশন এর পর একটি শেয়ার এ পর্যায়ে প্রবেশ করে। এখন আমাদের পছন্দ করা শেয়ার বাৎসরিক লো হতে ৩০% এর উপরে থাকে তারসাথে টপ ২০ লেনদেনের শীর্ষে এবং টপ ২০ দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকে। তাহলে আমরা শেয়ারটি ক্রয় করার সিদ্বান্ত নিতে পারি। এ পর্যায়ে একটি শেয়ারের দাম ১০ টাকা বাড়লে তা থেকে ৩-৫-৬ টাকা কমবে তারপর আবার প্রাইস আবার বাড়া শুরু করবে। *প্রাইস কমার পর বাড়তে শুরু করলে তখন একটি শেয়ার কিনতে হবে*। এ ভাবে একটি শেয়ার সামনে এগিয়ে যাবে। ক্রয় করার পর এখান থেকে তৃতীয় পর্যায় অর্থ্যাৎ প্রাইস বাৎসরিক হাইয়ের ৮০-১০০% এর মধ্যে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করব। প্রাইস দ্বিতীয় পর্যায় বাৎসরিক লো হতে ৩০-৮০% এর মধ্যে থাকলে টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর ভাষায় এই জোনটাকে মার্কআপ জোন বলা হয়। এ মার্কআপ জোন ৩-৪ মাস হতে পারে।
তৃতীয় পর্যায় প্রাইস বাৎসরিক লো হতে হাইয়ের ৮০-১০০% এর মধ্যে :
এ সময় রেকর্ডডেট কাছাকাছি চলে আসবে। শেয়ারটি তার সর্বোচ্ছ শক্তি দেখিয়ে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করবে। বেশিরভাগ শেয়ার তার আগের বছরের হয় প্রাইস কে অতিক্রম করে যেতে পারবে না। এ পর্যায়ে যদি আমাদের ধৈর্য থাকে এবং সাহস থাকে তাহলে আমরা অপেক্ষা করতে। হার্ট দুর্বল হলে হাতে থাকা শেয়ারটির লাভ তুলে নেয়া উচিত।
টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর ভাষায় প্রাইস বাৎসরিক হাইয়ের ৮০-১০০% এর মধ্যের এ পর্যায়কে ডিস্ট্রিবিউশন জোন বলা হয়। এ জোন ১-২ মাস হতে পারে। এ পর্যায়ে নতুন এন্ট্রি দেয়া কোনভাবেই উচিত না। কারন এরপর রেকর্ডডেট শেষ যাবে। দাম আস্তে আস্তে কমতে থাকবে আর বছরের সর্বনিম্ন দামের কাছে ফিরে যেতে চাইবে।
নোট : বুঝার সুবিধার জন্য এখানে OLYMPIC এর চার্ট দেখানো হয়েছে। এটা কোন বাই -সেল নির্দেশনা নয়। এটি একটি শিক্ষণীয় পোস্ট। সবসময় এরকম নাও হতে পারে।