ফাণ্ডামেন্টাল এনালাইসিস - পার্ট-২.
==========================
শুধুমাত্র নতুন বিনিয়োগকারী, পেনশনার বা লং টাইমফ্রেমে যারা বিনিয়োগ করবেন, পরামর্শটি কেবল তাঁদের জন্য।।
======================================
১) আপনি যে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন বলে মনস্থির করেছেন, সেই কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে আপনি যাচাই করুন, সেই কোম্পানির প্রোডাক্ট বা পণ্য আপনার নিকটস্থ বাজার, মোড়, বা পাশের দোকানে এভেলেবল কিনা? পণ্যটির চাহিদা কেমন? কোম্পানির ব্যবসা একচেটিয়া কি না? কোম্পানির রেপুটেশন কেমন? কোম্পানির প্রোডাক্ট কোয়ালিটির সাথে কম্প্রোমাইজ করে কি না? কোম্পানি সম্পর্কে জনগণের পারসেপশন কেমন? সবগুলো প্রশ্নের উত্তর যদি সন্তোষজনক হয়, তাহলে কোম্পানিটি সিলেক্ট করুন। সন্তোষজনক না হলে ওয়াচলিস্ট থেকে কোম্পানিটি ছাঁটাই করুন। এরপর..........
২) কোম্পানি সিলেকশন শেষ হলে এবার কোম্পানির প্রসপেক্টাসে ঢুকুন। এবার কোম্পানির ফাণ্ডামেন্টাল বা মৌলিক বিষয়গুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখুন। প্রথমে দেখুন কোম্পানির ইপিএস গ্রোথ হচ্ছে কি না? তারপর দেখুন ইপিএস এর সাথে শেয়ারের মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? এটা বোঝার জন্য আমরা পিই রেশিও ইন্ডিকেটরটির হেল্প নিতে পারি। এক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড পিই রেশিও হলো ১৫ বা এর চেয়ে কম। তবে ২০ হলেও নেওয়া যায়। এরপর দেখুন ন্যাভ। কোম্পানির ন্যাভ যত বেশি হবে অর্থাৎ ন্যাভ ও বাজার মূল্যের রেশিও যত কম হবে, সেই কোম্পানি বিনিয়োগের জন্য তত উপযোগী। এরপর দেখবেন Tax after profit অংশটি। এটা যদি প্রতি বছর ক্রমবর্ধমান হয়, তাহলে এটা বিনিয়োগের জন্য লুক্রেটিভ। এরপর দেখবেন কোম্পানির লোন কেমন? যদি লোন না থাকে, তাহলে সেটা অত্যন্ত লুক্রেটিভ। আর লোন থাকলেও তা যদি কোম্পানির রিজার্ভের তুলনায় নগণ্য হয়, তাহলেও সেটা বিনিয়োগের উপযুক্ত হিসেবেই ধরে নিবেন।।
৩) এবার শেষ অপশনটি হলো ডিরেক্টর / স্পন্সরদের শেয়ার হোল্ডিং পোরশান। এখানে ডিরেক্টর হোল্ডিংস যত বেশি হবে, সে কোম্পানির অডিট রিপোর্ট তত বেশি স্বচ্ছ হবে। এখানে নূন্যতম ৬০% এবং সর্বোচ্চ ৯০% হলে সবচেয়ে ভালো হয়। তবে, অনেক ভালো কোম্পানি আছে, যেগুলোর ডিরেক্টর হোল্ডিং ৪০% এর নিচে হলেও কোম্পানি অত্যন্ত রেপুটেশনের সাথে ব্যবসা করে। এমন কোম্পানিতেও আপনি নিশ্চিন্তে বিনিয়োগ করতে পারেন।
সবশেষে আপনাকে কোম্পানিটির গত ৫ বছরের মূল্যের গ্রাফ দেখতে হবে। এটা দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন কোন মাসে কোম্পানির শেয়ারের প্রাইস কম থাকে এবং কোন মাসে প্রাইস সর্বোচ্চ থাকে। এটা ডিএসই ওয়েবসাইটেই পেয়ে যাবেন। এবার যে মাসে মূল্য কম থাকে, সেই মাসে এন্ট্রি নিবেন এবং যে মাসে সর্বোচ্চ দাম উঠে সেই মাসে এক্সিট নিবেন।।
Fundamental Analysis
======================================
আজকের পাঠঃ "NOCFPS"
(এটা কোন কোম্পানি সম্পর্কে ফাণ্ডামেন্টাল এনালাইসিস Key, যা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য জেনে রাখা হলো - "Key to Success
".
-------------------------------------------------------------------------
১)NOCFPS
কী?
২)কোন স্ক্রিপ্টের NOCFPS কী অর্থ বহন করে? এটা শেয়ারের শক্তিমত্তায় কীভাবে কাজ করে?
৩) শেয়ারে বিনিয়োগের আগে স্ক্রিপ্টটির NOCFPS জানা কতটা জরুরী?
৪) লভ্যংশ ঘোষণার সময় প্রতিটি স্ক্রিপ্টই NOCFPS প্রকাশ করে; এটা প্রকাশ না করলে বা না জানলে কী সমস্যা?
৫) শেয়ারের নগদ প্রবাহ কী? এই নগদ প্রবাহ দ্বারা আমরা শেয়ারের শক্তির বিচার কীভাবে করি?
Net Operating Cash Flow Per Share (NOCFPS বা নগদ প্রবাহ হলো- নগদ এবং নগদ সমতুল্য সম্পদের আগমন, যা বিভিন্ন কার্যাবলির মাধ্যমে সম্পাদিত হয়ে থাকে।
শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ = পরিচালন নগদ প্রবাহ-অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশ /
সাধারণ শেয়ারের সংখ্যা।
সহজভাবে বললে কর পরবর্তী আয় ও শেয়ার প্রতি ডেপ্রিসিয়েশন হিসেব করে ক্যাশ ফ্লো হিসেব করা হয় কোম্পানির শক্তি বা গতিশীলতা বুঝার জন্য। EPS এর চেয়ে NOCFPS অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ EPS ম্যানিপুলেট করা সহজ কিন্তু NOCFPS ম্যানিপুলেট করা কঠিন। বলা যায় NOCFPSই হলো কোম্পানির প্রকৃত আয়।
অথচ আমরা ৯০% বিনিয়োগকারীদেরকে পিই রেশিও, ন্যাভ, এবং ইপিএস নিয়ে পড়ে থাকতে দেখি। কিন্তু আসল আয় মানে নিট আয়কে কেউ আমলেই নিতে চায় না। অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই কাগুজে আয় EPS নিয়ে মাতামাতি করে থাকে।।
যাইহোক,
"Net Operating Cash Flow per Share" (NOCFPS) মুলতঃ উৎপাদনশীল খাত যেমন- ইঞ্জিনিয়ারিং, পাওয়ার, সিরামিক, সিমেন্ট, ফার্মা, টেলিকম কোম্পানিগুলোর আর্নিং কোয়ালিটি কেমন তা বুঝতে এই NOCFPS রেশিওটি ব্যবহার করা হয়।
ধরুন, কোম্পানি কোন কোম্পানির বার্ষিক ইপিএস দেখালো ৫ টাকা কিন্তু তার নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো হল ২ টাকা!
মানে কোম্পানি শেয়ার প্রতি ৫ টাকা মুনাফা করলেও তার ব্যাংক একাউন্টে এসেছে বা আছে ২ টাকা। এর অর্থ হতে পারে কোম্পানি বাকিতে পণ্য বিক্রি করে ৩ টাকা কাগুজে মুনাফা দেখিয়েছে যা ভবিষ্যতে আদায় হতেও পারে, নাও পারে।।
উৎপাদনশীল কোম্পানি যারা ১ বছরের কম বাকিতে ব্যবসা করে তাদের EPS এবং NOCFPS একই বা কাছাকাছি হয়। যদি অনেক ব্যবধান থাকে তবে ক্যাশ ফ্লো স্ট্রেটমেন্ট চেক করে কারন খুঁজে বের করতে হবে। কেন আয় এবং নগদ প্রবাহে বড় ব্যবধান হয়েছে? বাকিতে ব্যবসা একটা কারন মাত্র। আরো অনেক কারণে কোম্পানির EPS এবং NOCFPS এর মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
ব্যাংক, ফাইনান্সগুলো যেহেতু ৬ থেকে ১২ মাসের আমানত নিয়ে ৩-৫ বছর মেয়াদি ঋণ দেয় সেহেতু তাদের NOCFPS নেগেটিভ হতে পারে।।
অনেক ভালো কোম্পানির NOCFPS তার আগ্রাসী বিনিয়োগের কারণে অনেক সময় নেগেটিভ হয়ে থাকতে পারে! এটি মোটেও বড় কোন বিষয় নয়, পরীক্ষিত বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কোন কোম্পানি হলে এই সুযোগ গ্রহণ করলে পরে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়। যদিও আমাদের দেশে এমন কোম্পানির সংখ্যা অতি নগণ্য।